দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বালু ব্যবসায়ীকে অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির মামলার প্রধান আসামি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া প্রকাশ্যে সমাবেশ করায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিব।
সোমবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে ঘোড়াশাল পৌরসভার চরপাড়া এলাকায় রওশন জেনারেল হাসপাতাল ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহিউদ্দিন চিশতিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেন এবং চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভয় পান না। একই সঙ্গে তিনি এলাকাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণাও দেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোচিত মামলার প্রধান আসামি হওয়ার পরও গ্রেপ্তার এড়িয়ে প্রকাশ্যে শতাধিক সমর্থক নিয়ে সমাবেশ করা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সমাবেশে তার অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার বাদী মিয়া মোহাম্মদ সজিব দাবি করেন, মামলার পর থেকেই আসামিরা তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "মামলার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে সমাবেশ করেও গ্রেপ্তার হচ্ছেন না। আমি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহিউদ্দিন চিশতিয়া নিজেই সন্ত্রাস ও মাদক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাই তার মাদকমুক্ত এলাকার ঘোষণা প্রশ্নবিদ্ধ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমাবেশটি অল্প সময়ের হওয়ায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
গত ১৩ জুলাই বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুট মিলের সামনে থেকে বালু ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া ওই ব্যবসায়ীর কানে কামড় দিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পরে আহত সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পলাশ থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর ব্যবসায়িক অংশীদার ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিব।
যে আই